আব্দুর রহমান : বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে বিবেচনা করা হলেও প্রতি বছর কুরবানির মৌসুম এলেই সামনে আসে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার চিত্র। কুরবানির পশুর চামড়া দেশের চামড়া শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলেও সঠিক সংরক্ষণ, ন্যায্যমূল্য এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এই শিল্প তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে ব্যবহৃত মোট কাঁচা চামড়ার বড় একটি অংশ আসে ঈদুল আজহার সময়। প্রতি বছর লাখ লাখ গরু, ছাগল ও মহিষ কুরবানি হয়। এসব পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের পর চামড়া শিল্প হতে পারে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত। ইতোমধ্যে দেশীয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। জুতা, ব্যাগ, ওয়ালেট, বেল্টসহ নানা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রতি বছর কুরবানির সময় চামড়ার দাম নিয়ে দেখা দেয় অস্থিরতা। অনেক স্থানে চামড়া খুব কম দামে বিক্রি হয়, আবার কোথাও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও এতিমখানা-মাদরাসাগুলো কাক্সিক্ষত মূল্য না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাঁচা চামড়া সংগ্রহের পর যথাযথ লবণ সংরক্ষণ, পরিবহন ও গুদামজাত ব্যবস্থার অভাবে বড় অংশের চামড়া নষ্ট হয়। এছাড়া বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের কারণেও প্রকৃত বিক্রেতারা ন্যায্যমূল্য পান না।
চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আধুনিক ট্যানারি ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদ নিশ্চিত করতে হবে। সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে এখনো অনেক অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার ও বেসরকারি খাত সমন্বিত উদ্যোগ নিলে চামড়া শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ সুবিধা, বাজার মনিটরিং এবং রপ্তানিমুখী নীতিমালা বাস্তবায়ন।
তাদের মতে, কুরবানির চামড়া শুধু ধর্মীয় অনুষঙ্গ নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও একটি বড় খাত। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।