সিলেট ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
মানিকগঞ্জ

বিয়ের দাবিতে ফাঁসির দড়ি নিয়ে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম ০৯:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ১০ বার পঠিত

মাস তিনেক আগে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার মিম ও রবিউলের মধ্যে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক পায় গভীরতা। উভয়ের পরিবারই তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়ে বিয়েতে সম্মত হয়। এতে খুশি হয় প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনই।

কিন্তু হঠাৎ করেই প্রেমিকা মিম অজ্ঞাত কারণে বেঁকে বসেন, যা মানসিকভাবে ভেঙে দেয় প্রেমিক রবিউলকে। হতাশায় দিন কাটতে থাকে তার। প্রেমের পাগল রবিউল দমে না গিয়ে শেষমেশ উপায় না পেয়ে ফাঁসির দড়ি নিয়ে হাজির হন তার ভালোবাসার প্রেমিকা মিমের বাড়িতে। নিজের প্রেমের সম্পর্ককে পূর্ণতা দিতে তিনি প্রেমিকার বাড়িতে অনশনে বসে পড়েন এবং মিমকে না পেলে জীবন শেষ করে দেওয়ার কথাও বলেন। তবে এত কিছুর পরেও মন গলেনি প্রেমিকা মিমের।

প্রেমজনিত ঘটনা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে ‘বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় ঘটেছে পুরো উল্টো ঘটনা।

এমন অবাক করা ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের কৌড়ি গ্রামে। বিয়ের দাবিতে ফাঁসির দড়ি হাতে প্রেমিকা তাহমিনা মিমের (২১) বাড়িতে অনশন করেন প্রেমিক রবিউল হাসান রবি (২৮) নামের ওই যুবক। এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য সচক্ষে দেখতে উৎসুক জনতা মিমের বাড়িতে ভিড় জমায়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সুরহার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা প্রেমিক দাবি করা ওই যুবককে বুঝিয়ে তার বাড়িতে পাঠায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তে ভাইরাল হয়।

প্রেমিক দাবি করা যুবক রবিউল হাসান রবি হরিরামপুর উপজেলার উত্তর মেরুন্ডি এলাকার আজাদ মোল্লার ছেলে এবং পেশায় ঠিকাদার। আর প্রেমিকা তাহমিনা মিম কৌড়ি এলাকার প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে এবং মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্রী।

প্রেমিক রবিউল হাসান রবি বলেন, ‘মিমের সঙ্গে আমার তিন মাসের প্রেমের সম্পর্ক। সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গভীর করেছে এবং সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছে। আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর দুজনের পরিবারের লোকজনও মেনে নিয়েছিল এবং মিম বিয়েতে সম্মতিও দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কেন সে আমাদের বিয়েতে বেঁকে বসেছে, আমি জানি না। আবার সে আমার টাকা-পয়সাও হাতিয়ে নিয়েছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। তার সঙ্গে আমার মেলামেশার বিষয়ে আমার এলাকায় অনেকেই দেখেছে। এখন মিম আমাকে বিয়ে না করলে আমার সম্মান চলে যাবে, সামাজিকভাবে আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যরা অসম্মানিত হবে। এজন্য আমি উপায় না পেয়ে তার বাসায় এসেছি। এখন যদি সে আমাকে বিয়ে না করে, তাহলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার অন্য কোনো পথ নেই। আমি ফাঁসির দড়ি সঙ্গে এনেছি, হয় মিম আমাকে বিয়ে করবে না হয় আমার লাশ এই বাড়ি থেকে বের হবে।’

তবে প্রেমিকা মিম বলেন, ‘তার (রবিউল) সঙ্গে কেবলমাত্র কথাবার্তা হয়েছে, মাঝে মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে প্রেমের কিংবা বিয়ের কোনো সম্পর্ক তার সঙ্গে গড়ে ওঠেনি। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও সম্মানহানি করার উদ্দেশেই সে আমাদের বাড়িতে এসে উঠেছে। আমি এই ছেলেকে বিয়ে করব না, আর আমার মনে হচ্ছে সে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। কোনোভাবেই তাকে আমি বিয়ে করবো না।’

প্রেমিকার মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ে যেখানে সম্মত নয়, সেখানে আমি এগোতে পারবো না। আমার স্বামী প্রবাসে থাকে। এ ঘটনায় আমি কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমি ভয়ে আছি, যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। মেয়ে যদি রাজি থাকতো, তাহলে বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা বা আলোচনা করতাম। কিন্তু আমার মেয়ে তো রাজিই না।’

এ বিষয়ে চালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাস বলেন, ‘মেয়ে এবং মেয়ের পরিবার যদি রাজি না থাকে, সেক্ষেত্রে সুন্দর সমাধানের কোনো পথ নেই। স্থানীয় লোকজনের কাছে শুনেছি, তারা ওই ছেলেকে বুঝিয়ে তার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং পরে তাদের দুজনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

সম্পর্কিত :

মানিকগঞ্জ

বিয়ের দাবিতে ফাঁসির দড়ি নিয়ে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিক

আপডেট টাইম ০৯:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

মাস তিনেক আগে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার মিম ও রবিউলের মধ্যে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক পায় গভীরতা। উভয়ের পরিবারই তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়ে বিয়েতে সম্মত হয়। এতে খুশি হয় প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনই।

কিন্তু হঠাৎ করেই প্রেমিকা মিম অজ্ঞাত কারণে বেঁকে বসেন, যা মানসিকভাবে ভেঙে দেয় প্রেমিক রবিউলকে। হতাশায় দিন কাটতে থাকে তার। প্রেমের পাগল রবিউল দমে না গিয়ে শেষমেশ উপায় না পেয়ে ফাঁসির দড়ি নিয়ে হাজির হন তার ভালোবাসার প্রেমিকা মিমের বাড়িতে। নিজের প্রেমের সম্পর্ককে পূর্ণতা দিতে তিনি প্রেমিকার বাড়িতে অনশনে বসে পড়েন এবং মিমকে না পেলে জীবন শেষ করে দেওয়ার কথাও বলেন। তবে এত কিছুর পরেও মন গলেনি প্রেমিকা মিমের।

প্রেমজনিত ঘটনা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে ‘বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় ঘটেছে পুরো উল্টো ঘটনা।

এমন অবাক করা ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের কৌড়ি গ্রামে। বিয়ের দাবিতে ফাঁসির দড়ি হাতে প্রেমিকা তাহমিনা মিমের (২১) বাড়িতে অনশন করেন প্রেমিক রবিউল হাসান রবি (২৮) নামের ওই যুবক। এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য সচক্ষে দেখতে উৎসুক জনতা মিমের বাড়িতে ভিড় জমায়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সুরহার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা প্রেমিক দাবি করা ওই যুবককে বুঝিয়ে তার বাড়িতে পাঠায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তে ভাইরাল হয়।

প্রেমিক দাবি করা যুবক রবিউল হাসান রবি হরিরামপুর উপজেলার উত্তর মেরুন্ডি এলাকার আজাদ মোল্লার ছেলে এবং পেশায় ঠিকাদার। আর প্রেমিকা তাহমিনা মিম কৌড়ি এলাকার প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে এবং মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্রী।

প্রেমিক রবিউল হাসান রবি বলেন, ‘মিমের সঙ্গে আমার তিন মাসের প্রেমের সম্পর্ক। সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গভীর করেছে এবং সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছে। আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর দুজনের পরিবারের লোকজনও মেনে নিয়েছিল এবং মিম বিয়েতে সম্মতিও দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কেন সে আমাদের বিয়েতে বেঁকে বসেছে, আমি জানি না। আবার সে আমার টাকা-পয়সাও হাতিয়ে নিয়েছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। তার সঙ্গে আমার মেলামেশার বিষয়ে আমার এলাকায় অনেকেই দেখেছে। এখন মিম আমাকে বিয়ে না করলে আমার সম্মান চলে যাবে, সামাজিকভাবে আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যরা অসম্মানিত হবে। এজন্য আমি উপায় না পেয়ে তার বাসায় এসেছি। এখন যদি সে আমাকে বিয়ে না করে, তাহলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার অন্য কোনো পথ নেই। আমি ফাঁসির দড়ি সঙ্গে এনেছি, হয় মিম আমাকে বিয়ে করবে না হয় আমার লাশ এই বাড়ি থেকে বের হবে।’

তবে প্রেমিকা মিম বলেন, ‘তার (রবিউল) সঙ্গে কেবলমাত্র কথাবার্তা হয়েছে, মাঝে মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে প্রেমের কিংবা বিয়ের কোনো সম্পর্ক তার সঙ্গে গড়ে ওঠেনি। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও সম্মানহানি করার উদ্দেশেই সে আমাদের বাড়িতে এসে উঠেছে। আমি এই ছেলেকে বিয়ে করব না, আর আমার মনে হচ্ছে সে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। কোনোভাবেই তাকে আমি বিয়ে করবো না।’

প্রেমিকার মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ে যেখানে সম্মত নয়, সেখানে আমি এগোতে পারবো না। আমার স্বামী প্রবাসে থাকে। এ ঘটনায় আমি কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমি ভয়ে আছি, যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। মেয়ে যদি রাজি থাকতো, তাহলে বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা বা আলোচনা করতাম। কিন্তু আমার মেয়ে তো রাজিই না।’

এ বিষয়ে চালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাস বলেন, ‘মেয়ে এবং মেয়ের পরিবার যদি রাজি না থাকে, সেক্ষেত্রে সুন্দর সমাধানের কোনো পথ নেই। স্থানীয় লোকজনের কাছে শুনেছি, তারা ওই ছেলেকে বুঝিয়ে তার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং পরে তাদের দুজনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।