সিলেটে ডেঙ্গুতে ১৪ দিনে সং ক্র মি ত ৩৮

ডেঙ্গু শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়। আবহাওয়ার পরিবর্তন হলেও সিলেটে কমছে না ডেঙ্গুর থাবা। আকাশে-বাতাসে শীতের পরশ তবুও সিলেটে থামছে না ডেঙ্গুর ভয়াল দংশন। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। ডেঙ্গু আক্রান্তের হার চোখে পড়ার মতো। সিলেটে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৪ জন নতুন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যা জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১ ডিসেম্বর হতে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৮ জন। ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৫২০ জন। এর মধ্যে হবিগঞ্জে সর্বোচ্চ ২৪৭ জনসহ মৌলভীবাজারে ১০২ জন সুনামগঞ্জে ৮৬ জন ও সিলেটে ৮৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছেন। সিলেটে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১২ জন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ১ জন ও সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জনের প্রাণহানী ঘটেছে।

 

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১২ জন রোগী। এর মধ্যে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ২ জন, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতাল ২ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে৩ জন, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল ২ জন এবং হবিগঞ্জ লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু জীবানু বহনকারী এডিস মশার জেনেটিক বৈশিষ্টের পরিবর্তন ঘটেছে। অন্যান্য বছর এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও এ বছর নভেম্বর শেষেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না। এছাড়া পূর্বে এ মশা শুধু দিনে কামড়ালেও এখন দিনে বা রাতে যেকোন সময়েই কামড়াচ্ছে। তাই ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে বাসা-বাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাসহ দিনে-রাতে যেকোন সময় ঘুমানোর সময়ই মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।